
মরুভূমির আলো — প্রিয় নবীজির জীবন
অনেক অনেক দিন আগের কথা। মরুভূমির মধ্যে ছিল এক শহর, যার নাম মক্কা। তখনকার দিনে অনেক মানুষ মূর্তি পূজা করত। কেউ গরিবদের মারত, কেউ মিথ্যা বলত, আবার কেউ ছোটদের খারাপ ব্যবহার করত।
ঠিক তখনই মক্কার এক ঘরে জন্ম নিলেন এক ফুটফুটে শিশু। তাঁর নাম রাখা হলো মুহাম্মাদ। ছোটবেলাতেই তাঁর বাবা-মা মারা যান, তাই তিনি এতিম হয়ে যান। কিন্তু তাঁর দাদা আর চাচা তাঁকে অনেক ভালোবাসতেন এবং দেখাশোনা করতেন।
ছোট্ট মুহাম্মাদ ছিলেন খুব ভদ্র, শান্ত আর নম্র। তিনি কখনো মিথ্যা বলতেন না, কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন না। তিনি খেলাধুলাও করতেন, কিন্তু সবসময় ভালো ব্যবহার করতেন। বড় হতে হতে সবাই বুঝতে পারল, এই ছেলেটা অনেক সৎ। সবাই তাঁকে ভালোবাসত আর ডাকত “আল-আমিন” নামে, মানে — যে খুব বিশ্বস্ত।
যুবক হওয়ার পর মুহাম্মাদ ব্যবসা শুরু করেন। কখনো কাউকে ঠকাতেন না। তাঁর সততা দেখে এক সৎ ও ধনী নারী, খাদিজা, তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তাঁরা একসাথে খুব সুখে শান্তিতে জীবন কাটাতে থাকেন।
একদিন মুহাম্মাদ মক্কার এক পাহাড়ের গুহায় বসে ভাবছিলেন — “এত অন্যায় কেন হয় পৃথিবীতে?” তখনই হঠাৎ ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) এসে বললেন, “পড়ো!” এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নবী হওয়ার যাত্রা। তিনি হয়ে গেলেন আল্লাহর প্রেরিত একজন মহান নবী।
এরপর নবী মুহাম্মাদ (সা.) মানুষকে বললেন, “তোমরা শুধু এক আল্লাহকে বিশ্বাস করো, কারো ক্ষতি করো না, মিথ্যা বলো না, গরিবদের সাহায্য করো।” কিন্তু তখন অনেকেই তাঁর কথা শুনতে চাইল না। কেউ তাঁকে পাথর মারল, কেউ উপহাস করল।
যখন মক্কার লোকেরা নবীজিকে আর তাঁর সাহাবিদের অনেক কষ্ট দিতে শুরু করল, তখন তাঁরা মদিনা নামের আরেক শহরে চলে গেলেন। মদিনার মানুষ তাঁকে ভালোবাসল, এবং সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠল। নবীজি মদিনায় একটি মসজিদ বানালেন, যার নাম ছিল মসজিদে নববী।
নবীজি শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। কোনো শিশু তাঁর কাছে আসলে তিনি হাসিমুখে জিজ্ঞেস করতেন, “তুমি কেমন আছো?” তিনি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, আদর করতেন।
শেষ জীবনে নবীজি একটু দুর্বল হয়ে পড়লেন। ৬৩ বছর বয়সে তিনি মদিনায়, তাঁর স্ত্রী আয়েশার কোলে মাথা রেখে দোয়া করতে করতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন।
তাঁর মৃত্যুর পর সবাই খুব কাঁদল। কিন্তু নবীজি বলে গেছেন, “আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি— কুরআন আর আমার জীবনযাপন (সুন্নাহ)। এগুলো মেনে চললে তোমরা কখনো ভুল পথে যাবে না।”