
পহেলা বৈশাখ (বাংলা নববর্ষ)
পহেলা বৈশাখ আমাদের বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এটি আসে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল, আর এই দিনটিকে আমরা সবাই মিলে খুব আনন্দ করে উদ্যাপন করি। পহেলা বৈশাখ শুধু একটা তারিখ নয়—এটা হলো বাঙালিদের সবচেয়ে প্রিয় উৎসব, আমাদের সংস্কৃতি ও আনন্দের প্রতীক।
সকালে খুব ভোরে উঠে সবাই গোসল করে, পরে পরে নতুন জামা-কাপড়। কেউ পরে লাল-সাদা শাড়ি, কেউ পরে ফ্রক, কেউ পরে পাঞ্জাবি। সকালের নাশতা থাকে খুব মজার—পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ, ভর্তা, ডাল আর নানান দেশি খাবার! এই দিনের সকালের খাবারই যেন সবচেয়ে স্পেশাল।
ঢাকার রমনা বটমূলে ছায়ানটের গায়করা গেয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথের গান—
“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”।
এই গান শুনলেই মনটা আনন্দে ভরে যায়। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সবাই আসে সেখানে, ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে সবাই মিলে।
পহেলা বৈশাখে শহর আর গ্রামে বসে রঙিন বৈশাখী মেলা। মেলাতে পাওয়া যায় মাটির পুতুল, বাঁশি, মুখোশ, ঘুড়ি, ঝিনুকের মালা আর অনেক মজার খেলনা। শিশুরা চড়ে নাগরদোলায়, দেখে পুতুলনাচ, কেউ আবার খেলে লটারি। চারপাশ ভরে যায় হাসি-আনন্দে, গান-বাজনায়, আর রঙিন পোশাকে।
অনেক দোকানে হয় হালখাতা। দোকানদাররা পুরনো হিসাব মিটিয়ে নতুন খাতা খুলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করেন। তাঁরা ক্রেতাদের মিষ্টি খাওয়ান, শুভেচ্ছা জানান। এটি শুধু ব্যবসা নয়, বরং সম্পর্কের একটা নতুন শুরু।
পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায় সবাই মিলে একসাথে থাকতে, ভালোবাসতে এবং আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে গর্ব করে ধারণ করতে। এই দিনে হিন্দু-মুসলিম, ছোট-বড়, ধনী-গরিব সবাই মিলে একসঙ্গে আনন্দ করে।
আমরা চাই, প্রতি বছরের পহেলা বৈশাখ আমাদের জীবনে নিয়ে আসুক নতুন আশা, আনন্দ আর ভালোবাসা। বাংলা নববর্ষ হোক সবার জন্য শুভ আর শান্তিময়!
Tag:culture