
কচ্ছপ ও খরগোশের দৌড়

একসময় এক ঘন সবুজ বনে বাস করত এক খরগোশ ও এক কচ্ছপ।
খরগোশ ছিল অত্যন্ত দ্রুতগামী, আর সে এই নিয়ে গর্বও করত।
প্রতিদিনই সে বনের অন্যান্য প্রাণীদের বলত,
— “আমি এত দ্রুত দৌড়াতে পারি যে কেউই আমাকে হারাতে পারবে না!”
শান্ত স্বভাবের কচ্ছপ একদিন মৃদু হেসে বলল,
— “তবে চলো, আমরা এক দৌড় প্রতিযোগিতা করি।”
খরগোশ প্রথমে অবাক হলেও আনন্দের সঙ্গেই রাজি হয়ে গেল।
সে মনে মনে ভাবল,
— “এই ধীরগতির কচ্ছপ আমার প্রতিদ্বন্দ্বী? এ তো নিছক কৌতুক!”
নির্ধারিত হলো গন্তব্য— বনের ভেতর একটি বড় পুরোনো বটগাছ।
প্রতিযোগিতা শুরু হলো।
খরগোশ হাওয়ার মতো ছুটে চলল, আর চোখের পলকেই কচ্ছপকে অনেক পেছনে ফেলে দিল।
কিছুদূর গিয়ে সে ভাবল,
— “কচ্ছপ তো এখনও অনেক পিছনে! একটু বিশ্রাম নেই, তারপর আবার ছুটব।”
গাছের নিচে শুয়ে সে একসময় ঘুমিয়ে পড়ল।

অন্যদিকে, কচ্ছপ থামেনি। ধীর পায়ে হলেও সে নিরন্তর এগিয়ে যেতে লাগল।
তার চোখ ছিল লক্ষ্যপথে, আর মনে ছিল ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কচ্ছপ পৌঁছে গেল নির্ধারিত গন্তব্যে।
যখন খরগোশ ঘুম ভেঙে উঠে দৌড়াতে শুরু করল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে—
সে দেখল কচ্ছপ ইতোমধ্যেই গাছের কাছে পৌঁছে গেছে এবং প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছে।
খরগোশ অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল— আর মাথা নিচু করে বলল,
— “আজ আমি বুঝলাম, অহংকারে নয়, জয়ে প্রয়োজন ধৈর্য, নিষ্ঠা আর নিয়মিত চেষ্টা।”
গল্প থেকে আমরা কী শিখলাম?
এই গল্প আমাদের শেখায় —
ধৈর্য ও নিয়মিত চেষ্টা করলে জয় সম্ভব।
আত্মবিশ্বাস ভালো, কিন্তু অহংকার ক্ষতির কারণ।
সফলতা আসে ধীর, ধৈর্যশীল ও মনোযোগী থাকার মাধ্যমে।